Pages

Wednesday, December 4, 2013

কমদামে কোনটি কিনবেন: মটো জি বনাম নকিয়া লুমিয়া ৬২৫

স্বল্পমূল্যের স্মার্টফোনের বাজারটা বেশ অনেকদিন ধরেই বেশ চাঙ্গা হয়ে উঠছে। স্মার্টফোন জগতে রাজত্ব করছে অ্যান্ড্রয়েড, আর তা সম্ভব হওয়ার পেছনে স্বল্পমূল্যে অ্যান্ড্রয়েড-চালিত ফোন সহজলভ্য হওয়া অন্যতম প্রধান কারণ। আর তাই এবার কম দামের এবং তুলনামূলক কম শক্তিশালী হার্ডওয়্যারের স্মার্টফোন তৈরির দিকে নজর দিতে শুরু করেছে কোম্পানিরা। গুগল তাদের সাম্প্রতিক অ্যান্ড্রয়েড ৪.৪ কিটক্যাট বিশেষ করে লো-এন্ড অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের জন্য উপযোগী করে তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে। আর এবার মটোরোলা মটো জি নামে একেবারেই অবিশ্বাস্য কম দামে এনেছে তাদের নতুন অ্যান্ড্রয়েড ফোন, যেটিতে শিগগিরই অ্যান্ড্রয়েড ৪.৪ দেয়া হবে বলে তারা জানিয়েছে।
মটো জি
কিন্তু কমদামে স্মার্টফোন বললেই তো আর অ্যান্ড্রয়েড বোঝানো যায় না। অন্যান্য ব্র্যান্ডেরও রয়েছে কমদামী অ্যান্ড্রয়েড ফোন। যেহেতু অ্যাপলের “কমদামী” কোনো ফোন নেই, সেহেতু বাজেট-বান্ধব ফোনের বাজারে অ্যান্ড্রয়েডের প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বী হলো উইন্ডোজ ফোন। অন্য ভাষায়, নকিয়া লুমিয়া।
নকিয়া এক সময় মোবাইল জগতে রাজত্ব করলেও অ্যান্ড্রয়েড বা স্মার্টফোনের বিপ্লবের পর থেকেই তারা বাজার হারাতে শুরু করে। তার বিশেষ কারণও রয়েছে অবশ্য। নকিয়া লুমিয়ার ‘কমদামী’ বা ‘বাজেট-বান্ধব’ ফোনটিও অনেক ক্রেতার কাছেই ততোটা বাজেট-বান্ধব বা কমদামী বলে মনে হবে না। যদিও অনেকেই বলেন নকিয়া লুমিয়ার লো-এন্ড ফোনেও অনেকটা হাই-এন্ডের মতোই পারফরম্যান্স পাওয়া যায়, তবুও যখন কাছাকাছি দামে অ্যান্ড্রয়েড ফোনের সঙ্গে লুমিয়ার তুলনা করতে যাবেন, তখন দারুণ দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগতে থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়। বিশেষ করে এখন যেহেতু গুগল কমদামী ফোনের দিকে নজর দিতে শুরু করেছে।
তাহলে কমদামে কোনটি কিনবেন? কমদামী অ্যান্ড্রয়েড নাকি উইন্ডোজ ফোন?
চলুন আজ তুলনা করা যাক সম্প্রতি উন্মুক্ত হওয়া মটো জি এবং লুমিয়া সিরিজের তুলনামূলক কমদামী ফোন নকিয়া লুমিয়া ৬২৫-এর মধ্যে।

ডিজাইন

মটো জি
মটো জি দেখে প্রায় সব প্রযুক্তি বিশারদরাই মন্তব্য করেছেন যে, অনেকটা মটো এক্স-এর আদলেই তৈরি করা হয়েছে এটি। যদিও মটো এক্স-এর মতো এক্সটেনসিভ কাস্টোমাইজেশনের সুবিধা নেই মটো জি-তে, তবুও এর সাধারণ কালো ব্যাক কভারের পাশাপাশি আরও কিছু উজ্জ্বল রঙের কভার রয়েছে, যার মাধ্যমে মটো জি-কে দেয়া সম্ভব দারুণ কিছু লুক। এছাড়াও লাল, সাদা, হলুদ ইত্যাদি বিভিন্ন রঙের ব্যাক কভারের সঙ্গে মিলিয়ে হেডফোন, কেইস, ফ্লিপ শেল ইত্যাদি অ্যাক্সেসরিজও রয়েছে। ফলে সবমিলিয়ে ফোনটি দেখতে সত্যিই দারুণ করে তুলেছে। পাশাপাশি পেছনের হালকা কার্ভ থাকার কারণে এটি হাতে ধরতেও বেশ আরামদায়ক, যা বলার অপেক্ষা রাখে না।
অন্যদিকে লুমিয়া ৬২৫ একইভাবে উজ্জ্বল ও রঙিন। নকিয়া লুমিয়ার অন্যতম বিশেষত্বই এর উজ্জ্বল ও বাহারি রঙের ডিজাইন, যার কারণে আইফোন ৫সি বাজারে আসার পর অ্যাপলকে ‘নকল’ করার জন্য ‘ধন্যবাদ’ জানাতে দেরি করেনি নকিয়া।
লুমিয়া ৬২৫
লুমিয়া ৬২৫-এর পেছনটাও ধরতে বেশ আরামদায়ক এবং এর সঙ্গে একাধিক উজ্জ্বল রঙের ব্যাক কভার রয়েছে। এছাড়াও লুমিয়া ৬২৫ পুরো ফোনটিই অনেকটা ‘রাউন্ডেড কর্নার’ ফর্ম ফ্যাক্টরে তৈরি, যার ফলে এই ডিজাইন অনেকের কাছে আবার ভালো নাও লাগতে পারে; বিশেষ করে যারা বার-ফোন ডিজাইনের ভক্ত।
লুমিয়া ৬২৫ ও মটো জি – দু’টি ফোনেরই ব্যাক কভার বদলানোর সুবিধা থাকলেও বদলানোর কাজটা সহজ করতে যেন ভুলে গেছে নকিয়া ও মটোরোলা দু’টি কোম্পানিই। অর্থাৎ, কভার বদলে ফেললে ফোন নতুন রূপ ধারণ করবে ঠিকই, কিন্তু দু’টি ফোনের ব্যাক কভার খোলাই খানিকটা ঝক্কির কাজ বলে মনে হতে পারে। অবশ্য সেটা ব্যবহারকারীর উপর নির্ভর করে।

হার্ডওয়্যার

মটোরোলা মটো জি-এর উদ্বোধনের সময়ই মনে করিয়ে দিয়েছে যে, মটো জি একটি বাজেট ফোন। কম দাম ধরে রেখে এতে স্মার্টফোনে যতদূর সম্ভব ভালো অভিজ্ঞতা দেয়ার মতো করেই তৈরি করা হয়েছে মটো জি। আর এ কাজে মটোরোলা খুব একটা ভালো করেনি তা বলা যাবে না। যদিও এই কাজ করতে গিয়ে মটোরোলার মটো এক্স-এর দারুণ কিছু ফিচার মটো জি থেকে বাদ দিতে হয়েছে, কিন্তু সবমিলিয়ে দাম অনুপাতে সত্যিই দারুণ একটি ডিভাইস তৈরি করেছে মটোরোলা।
মটো জি-তে রয়েছে ৪.৫ ইঞ্চি আইপিএস ডিসপ্লে প্যানেল যার রেজুলেশন 1280×720 পিক্সেল। অন্যদিকে লুমিয়া ৬২৫-এ রয়েছে ৪.৭ ইঞ্চি ডিসপ্লে যার রেজুলেশন মাত্র 800×480 পিক্সেল। মটো জি ডিসপ্লের পিপিআই (পিক্সেল পার ইঞ্চি) হচ্ছে অবিশ্বাস্য ৩২৯ পিপিআই, যেখানে নকিয়া লুমিয়া ৬২৫-এর মাত্র ১৯৯ পিপিআই। অবশ্য এতো কম পিপিআই থাকার পরও উইন্ডোজ ফোন ৮-এর ব্যতিক্রমী ডিজাইন থাকার কারণে খুব একটি খারাপ অভিজ্ঞতা দেবে না লুমিয়া ৬২৫; কিন্তু তাই বলে একে মটো জি-এর সঙ্গে তুলনাও করা যাবে না!
মটো জি-তে রয়েছে ১.২ গিগাহার্জ কোয়াড-কোর কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৪০০ প্রসেসর এবং ১ গিগাবাইট র‌্যাম। এছাড়াও ৫ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, ১.৩ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা ও ৮ কিংবা ১৬ গিগাবাইট ইন্টারনাল স্টোরেজ। তবে এতে মেমোরি কার্ডের জন্য কোনো স্লট নেই।
লুমিয়া ৬২৫
অন্যদিকে নকিয়া লুমিয়া ৬২৫-এ রয়েছে ১.২ গিগাহার্জ ডুয়াল-কোর কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন এস৪, ৫১২ মেগাবাইট র‌্যাম, ৫ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, ভিজিএ ফ্রন্ট ক্যামেরা এবং ১৬ গিগাবাইট স্টোরেজ। পাশাপাশি এতে মেমোরি কার্ডের স্লট রয়েছে, যা মটো জি থেকে একে এক ধাপ এগিয়ে রেখেছে।
কিন্তু এসডি কার্ড স্লট দিয়ে এক ধাপ এগিয়ে গেলেও আসলেই কি মটো জি থেকে হার্ডওয়্যারের বিচারে এগিয়ে আছে লুমিয়া ৬২৫?

ক্যামেরা

লুমিয়া ৬২৫
লুমিয়া সিরিজের ফোনগুলোকে অনেকেই ক্যামেরার বিচারে আগেভাগেই এগিয়ে রাখেন। কিন্তু তাই বলে সব লুমিয়া ফোনের ক্যামেরাই কি “অসাধারণ” ছবি তুলতে সক্ষম?
হাই-এন্ড ফোনের ক্যামেরার চেয়ে লুমিয়া ৬২৫-এর মতো লো-এন্ড ফোনের ক্যামেরায় বেশ পার্থক্য রয়েছে। এতে নকিয়ার “প্রো” ক্যামেরা অ্যাপ্লিকেশন নেই বটে, কিন্তু তাই বলে একে একেবারে খারাপও বলা যাবে না। ছবি তোলায়ও লুমিয়া ৬২৫ যথেষ্টই দ্রুত। ফলে তেমন কোনো শাটার ল্যাগ ছাড়াই দ্রুত বন্ধুর ছবি তুলে ফেলতে পারবেন।
মটো জি
অন্যদিকে মটো জি-এর ক্যামেরাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। এতে গুগলের নেক্সাস ডিভাইসে যেসব ক্যামেরা অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহৃত হয়, সেটার বদলে মটোরোলার নিজস্ব ক্যামেরা অ্যাপ্লিকেশন জুড়ে দেয়া হয়েছে। এটি যথেষ্টই সাধারণ ইউজার ইন্টারফেসের উপর তৈরি। এইচডিআর কিংবা স্লো-মো(শন) ভিডিও সেটিংসগুলো থাকলেও মটো জি-কে বেশ দ্রুত ক্যামেরা বলা যাবে না। ছবি ভালো আসলেও লুমিয়া ৬২৫-এর সঙ্গে ছবি তোলার দ্রুততার প্রতিযোগিতায় ফেললে কিঞ্চিৎ পিছিয়েই থাকতে পারে মটো জি।

সফটওয়্যার

এখানেই লুমিয়া ৬২৫ এবং মটো জি-এর অন্যতম প্রধান পার্থক্য নিহিত! সেই পার্থক্য, যেটি অনেক ব্যবহারকারীর সিদ্ধান্ত ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে যাবার কারণ হতে পারে! লুমিয়া ৬২৫ চলছে উইন্ডোজ ফোন ৮-এ, যেখানে সম্প্রতি বাজারে আসা মটো জি-তে চলছে অ্যান্ড্রয়েড ৪.৩ জেলি বিন। মটোরোলা জানিয়েছে, জানুয়ারির মধ্যেই এতে অ্যান্ড্রয়েডের সর্বশেষ সংস্করণ অ্যান্ড্রয়েড ৪.৪ কিটক্যাট দিয়ে দেয়া হবে।
উইন্ডোজ ফোন বনাম অ্যান্ড্রয়েড তর্কে না গিয়ে এতটুকু বলে দেয়া যায় যে, দু’টি ফোনেরই আর্থিক দামের তুলনায় ইউজার এক্সপেরিয়েন্স যথেষ্ট ভালো। নিজ নিজ অপারেটিং সিস্টেমে দু’টি ফোনই বেশ ভালো কাজ করতে পারে। লুমিয়া ৬২৫ বা মটো জি – দু’টোর কোনোটাতেই তেমন কোনো ল্যাগ লক্ষ্য করা যায় না যেটি আপনাকে “সস্তার তিন অবস্থা” কথাটি মনে করিয়ে দেবে। এছাড়াও দু’টি ফোনেরই রয়েছে নিজস্ব বিশাল অ্যাপ্লিকেশনের স্টোর।
মটো জি
সফটওয়্যারের দিক দিয়ে পছন্দটা একেবারেই ব্যবহারকারীর উপর নির্ভর করে। আপনি যদি গুগলের ফ্যান হয়ে থাকেন, অ্যান্ড্রয়েডের ফ্যান হয়ে থাকেন, কিংবা গুগল সেবাসমূহের সঙ্গে নিজের দৈনন্দিন জীবন কিংবা কাজকর্মে অনেক বেশি যুক্ত হয়ে থাকেন, তাহলে স্বভাবতঃই অ্যান্ড্রয়েড আপনার জন্য সেরা চয়েস হবে, যেটা এমনিতেই আপনার হাত বাড়িয়ে দেবে মটো জি-এর প্রতি।
অন্যদিকে আপনি যদি হটমেইল/আউটলুক, বিং, স্কাইড্রাইভ, ওয়াননোট, এক্সবক্স মিউজিকের ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন, তাহলে স্বভাবতঃই মাইক্রোসফটের প্লাটফর্ম আপনার জন্য বেশি পছন্দনীয় হবে। যদিও এসব সেবার নিজস্ব বা অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশনও রয়েছে।
লুমিয়া ৬২৫
অ্যাপ্লিকেশনের কথা আসায় বলতেই হয় যে, গুগল প্লে স্টোরে প্রচুর অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে। এতো বেশি যে, আপনার কাজের অ্যাপ্লিকেশনের পাশাপাশি একই কাজ করতে পারে এমন আরও হাজারটা অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে। বেছে নেয়ার জন্য অ্যাপসের কোনো অভাব নেই গুগল প্লে স্টোরে। অন্যদিকে উইন্ডোজ স্টোরেও প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অ্যাপ্লিকেশন যোগ হতে থাকলেও আপনার এখনই প্রয়োজন এমন অনেক অ্যাপ্লিকেশন আবার মিস করতে পারেন মাইক্রোসফটের প্লাটফর্মে।
অ্যাপসের পাশাপাশি কাস্টোমাইজেশন অপশনও অ্যান্ড্রয়েডে তথা মটো জি-তে বেশি পাবেন। বুটলোডার আনলক, কাস্টম কার্নেল, কাস্টম রম ফ্ল্যাশ, কাস্টম লঞ্চার ইত্যাদি অনেক কিছুই আপনি মটো জি-তে করতে পারবেন যেখানে উইন্ডোজ ফোন তথা লুমিয়া ৬২৫-এ আপনি উইন্ডোজের একই লুক বা ইউজার ইন্টারফেসে আবদ্ধ থাকবেন।

সিদ্ধান্ত

আপনি যেহেতু এই আর্টিকেলটি পড়ছেন, সেহেতু অনেকটা আন্দাজেই বলা যায় যে, ফোন কিনতে গেলে আপনার পছন্দ মটো জি-এর দিকেই থাকবে। সাধারণত লো-এন্ড অ্যান্ড্রয়েড ফোনের তুলনায় লো-এন্ড উইন্ডোজ ফোনের পারফরম্যান্স বেশি ভালো পাওয়া যায়। কিন্তু মটো জি এই ধারণাকে বদলে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। কেবল ডিসপ্লে-ই আপনাকে লুমিয়া ৬২৫ থেকে সরিয়ে মটো জি-এর দিকে নিয়ে যাবে। এছাড়াও ডিভাইসের লুক অ্যান্ড ফিল-ও আপনাকে মটো জি-এর দিকেই আকৃষ্ট করাবে বেশি।
তবে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহার করতে করতে নতুন কিছু ব্যবহার করার ইচ্ছে থাকলে লুমিয়া ৬২৫-কে মোটেই খারাপ ডিভাইস বলা যাবে না। বরং আপনি উইন্ডোজ ফোন ৮-এর স্বাদ নিতে লুমিয়া ৬২৫ নিয়ে মাইক্রোসফটের প্লাটফর্মে আপনার যাত্রা শুরু করতে পারেন। তবে আপনি যদি অ্যাপস আর গেমস পাগল হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার যাত্রা খুব একটা শুভ হবে না, সে সতর্কবাণী আগে থেকেই দিয়ে রাখলাম!

মূল্য

মন্তব্য

লুমিয়া ৬২৫ ও মটো জি থেকে বেছে নিতে হলে কোনটি বাছবেন এবং কেন? মন্তব্যের ঘরে জানান আপনার মতামত।

মটো জি প্রি-অর্ডার নিচ্ছে অ্যামাজন, শিপমেন্ট শুরু ডিসেম্বরে

মটো জি
অনলাইন কেনাকাটার জনপ্রিয় সাইট অ্যামাজনে এবার প্রি-অর্ডার শুরু হয়েছে মটোরোলার নতুন ডিভাইস মটো জি-এর। মটোরোলা অফিসিয়ালি নতুন এই লো-এন্ড অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসটি বিক্রি শুরুর মাত্র ৩দিন পর বিখ্যাত রিটেইলার অ্যামাজন প্রি-অর্ডার নেয়া শুরু করলো। সূত্র জানিয়েছে, ডিসেম্বরের ৪ তারিখ থেকে ডিভাইস ডেলিভারি শুরু করবে অ্যামাজন।
সাধারণত কমদামের অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে পারফরম্যান্স খারাপ হয়ে থাকলেও এই ধারণা সম্পূর্ণ বদলে দেয় মটোরোলার নতুন এই ডিভাইস। ৪.৫-ইঞ্চি ডিসপ্লের এই ফোনের ৮ গিগাবাইট সংস্করণ ১৭৯ ডলারে এবং ১৬ গিগাবাইট সংস্করণ ১৯৯ ডলারে বিক্রি করছে অ্যামাজন। মটোরোলাও কিছুদিন আগে ঠিক একই দামে নতুন এই ডিভাইসটি বিক্রি শুরু করে।
মটোরোলা মটো জি-এর প্রধান আকর্ষণ, অন্তত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের জন্য, হলো এই যে, এটি আনলকড ডিভাইস। সাধারণত ২০০ ডলারের কাছাকাছি দাম দিয়ে ব্যবহারকারীরা যেসব নতুন অ্যান্ড্রয়েড ফোন হাতে পান, সেগুলো কোনও না কোনও ক্যারিয়ারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকে। ফলে পরবর্তী মাস থেকে ২ বছর পর্যন্ত ব্যবহারকারীকে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু মটো জি অবিশ্বাস্য কম মূল্যে আনলকড ফোন দিচ্ছে। আর একেই বিশেষজ্ঞরা মটো জি-এর ইউনিক সেলিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত করেছেন।
মটো জি কেনার ইচ্ছে থাকলে মটোরোলার নিজেদের স্টোর থেকে না হলেও অ্যামাজন থেকে প্রি-অর্ডার করে রাখতে পারেন এখনই।

Monday, December 2, 2013

বিশ্বকাপকে সামনে রেখে খবরভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন আনলো ফিফা

ফিফা
ফিফা বিশ্বকাপ ২০১৪-কে সামনে রেখে এবার অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস-এর জন্য অফিসিয়াল অ্যাপ্লিকেশন প্রকাশ করেছে ফিফা। জানা গেছে, বিশ্বের টপ ৮৫টি লিগের লাইভ স্কোরের পাশাপাশি এটি আরও অনেক টিমের খবর, স্ট্যাটিস্টিটক, ছবি, ভিডিও ও স্ট্যান্ডিং প্রকাশ করবে।
ফিফা জানিয়েছে, শুরু থেকেই বিশ্বব্যাপী ১৯৭টি লিগের খবরাখবর ও স্কোর জানা যাবে অফিসিয়াল এই ফিফা অ্যাপ্লিকেশন থেকে। তাদের ভাষ্যে, এই অ্যাপ্লিকেশনটির ব্যবহারকারীরা সপ্তাহে শত শত প্রতিযোগিতা ও হাজার হাজার গোলের খবর পাবেন। কেবল তাই নয়, বিশ্লেষণমূলক কাভারেজ ও সর্বশেষ ফিফা কোকা-কোলা ওয়ার্ল্ড র‌্যাংকিং-ও এই অ্যাপ্লিকেশনে স্থান পেয়েছে।
আগামী ৬ই ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ফাইনাল ড্র ম্যাচটি সরাসরি এই অ্যাপ্লিকেশনে স্ট্রিম করা যাবে বলেও ফিফা জানিয়েছে। আর তাই ফুটবলপ্রেমীরা দেরি না করে এখনই গুগল প্লে স্টোর থেকে ফিফা অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশনটি ডাউনলোড করে নিন।

Saturday, November 30, 2013

অ্যাপল যেভাবে প্রযুক্তি জগতের খলনায়ক

আপনি অ্যাপলের সাথে পরিচিত? হাহাহা। যারা প্রযুক্তির সাথে মিশে আছেন কম বেশি সবাই অ্যাপলের কোন না কোন প্রোডাক্ট সম্পর্কে জানি। আসলে তারা বিশ্বের সবচেয়ে স্বীকৃত ব্র্যান্ডের মধ্যে একটি।

বড় বড় সব কর্পোরেশন সবসময় কমিক এবং চলচ্চিত্রে খলনায়ক চরিত্রে প্রতিনিধিত্ব করতে ব্যবহার করা হয়েছে। একটু ঘাঁটাঘাটি করলে দেখা যাবে সেই সব কর্পোরেশন গুলোর কোনটিই অ্যাপলের থেকে বড় নয়। আপনি শুনলে আশ্চর্য হবেন এই অ্যাপল আসলে বাস্তব জিবনে খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করে যাচ্ছে। আজকের টিউনে আমি ৯টি বিষয়কে তুলে ধরার চেষ্টা করবো যা আপনাকে সন্দেহপ্রবণ করে তুলবে।

অত্যাধিক ট্যাক্স পরিহার

সব দেশের আইন পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, তারা সব সময় উদ্বিগ্ন থাকে এই ভেবে যে তাদের ট্যাক্স পরিহারের বিষয়টি যাতে পুরোপুরি আইনি হয়। বর্তমানে অ্যাপল এই আক্ষরিক পৃথিবীর দারিদ্র দূরীকরণের জন্য ব্যাপক পরিমান অর্থের মজুদ প্রক্রিয়া চালু করেছে - যা এক ধরনের অপমানের বিষয় ছাড়া কিছু না। আমি কোন বাজে কথা বলছি না। দি গার্ডিয়ান তথ্য অনুযায়ী অ্যাপল প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার ট্যাক্সের হাত থেকে ফাঁকি দিচ্ছে। তাদের এই ১০০ বিলিয়ন ডলার তারা শুধু মাত্র দক্ষিন আফ্রিকার দারিদ্র দূরীকরণে ব্যবহার করবে বলে জানিয়েছে।

কিন্তু এটা তো তাদের নিজস্ব কোম্পানির টাকা, রাইট? আপনি যদি তা "গিভ টু দি পোর" হিসেবে ব্যবহার করেন তাহলে বিশ্বের যে কোন কোম্পানি তাদের সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসবে। তবে অ্যাপলের কোন ক্ষতি হবে না যদি তাদের এই উন্মাদ পরিহার কৌশল বজায় রাখে। ভাবতেই অবাক লাগে যে তারা দারিদ্র দূরীকরণের চাটি ব্যবহার করে ট্যাক্সকে ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছে। অ্যাপল তাদের এই কৌশলকে কাজে লাগিয়ে অ্যাপল অন্যান্য প্রতিযোগীদের থেকে একটি অতিশয় অন্যায্য সুবিধা ভোগ করছে। সবথেকে খারাপ বিষয় হল এই বিশাল পরিমান টাকা মজুত করার প্রক্রিয়া অ্যাপলকে তাদের শিল্পে একচেটিয়া ব্যবসা করার জন্য জায়গা তৈরি করে দিচ্ছে।

কংগ্রেসকে অ্যাপলের প্রতারণা

এই পৃথিবীটা অনেক সুন্দর হত(!) যদি আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বোর্ড জানিয়ে ইচ্ছা মত রেট বসিয়ে ট্যাক্স দেয়া যেত। একবার চিন্তা করেন কি হত এতে। প্রথমত সবাই আপনার কথা শুনে হাসাহাসি শুরু করত। আপনার ভাগ্য খারাপ থাকলে আপনার সমস্ত প্রোপার্টি বাজেজাপ্ত করে আপনাকে জেলে পাঠানো হত। কিন্তু আপনি যদি অ্যাপলের সিইও টিম কুক হন তাহলে আপনার ক্ষেত্রে তা ঘটবে না। কিছু দিন আগে কুক কংগ্রেসকে জানান তারা তাদের কোম্পানির ট্যাক্স দিতে পারবে যদি তাদের মন মত রেট নির্ধারণ করে দেয়া হয়। অ্যাপলের তাদের প্রস্তাবিত রেট(নয় শতাংশ) জানালে কংগ্রেস তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে সেই রেট মেনে নেয়। এছাড়াও তারা প্রায় ঘণ্টা খানেক সময় ব্যয় করে মহৎ এই অ্যাপলের পণ্য গুলো নিয়ে আলোচনা করে।

আক্রমনাত্মক মামলা

আক্রমনাত্মক মামলা বিষয়টি আসলে কি? সাধারণত যখন আর্থিকভাবে বড় কোন কোম্পানি বা ব্যক্তি তাদের নিজেদের ব্যবসার ক্ষতি বা সেন্সরের জন্য অন্য কোন কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করে। অ্যাপলের মামলার ফাইলগুলো অনেকটা পেশাদার সড়ক দুর্ঘটনায় শিকারের মত। এই মহাকাব্যকে কেন্দ্র করে অ্যাপল ও স্যামসাং এর মধ্যে বড়সড় যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। অ্যাপলের অভিযোগ স্যামসাং তাদের স্মার্টফোন অ্যাপলের স্মার্টফোনের সমগ্র কনসেপ্ট ব্যবহার করেছে। যেমন, অ্যাপলের সুইপিং টু আনলক, অ্যাপস এর স্কোয়ার আইকন, টাচের মাধ্যমে যে কোন ডকুমেন্ট কে বর্ধিত করার টেকনিক, অ্যাপলের আয়তাকার ফোনের শেপ  সহ বেশ কিছু কনসেপ্ট স্যামসাং নকল করেছে বলে অ্যাপল দাবি করে। কিন্তু একটি স্মার্টফোনের বর্ণনায় এগুলোর একটি কনসেপ্ট ও ব্যবহার হয় বলে মনে হয় না। বরং অ্যাপল স্যামসাং এর এই নতুনত্ব কে স্বাগত না জানিয়ে তাদের পথে বাধার সৃষ্টি করছে।

কোর্টের রায় ও অ্যাপলের বিরোধিতা

অ্যাপল বনাম স্যামসাং এর মধ্যে উপরের মামলার ফলে অ্যাপল ইউকে থেকে তাদের ট্যাবলেট খুইয়েছে। সাথে ইউকে কোর্ট অ্যাপলকে স্যামসাং এর কাছে তাদের ভুলের জন্য ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু অ্যাপল ইউকে আদালত কতৃক অর্ডার অনুয়ায়ী তাদের বিরোধী দলের কাছে ক্ষমা বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দেয়। আদালত থেকে প্রেরিত প্রথম নোটিশটিতে অ্যাপলের কাছ থেকে গ্রহনযোগ্য কোন কৈফিয়ত না পাওয়ায় তাদেরকে দ্বিতীয় নোটিশ পাঠানো হয়। কিন্তু এর পরের এই নোটিশ সাধারনজনগনের নাগালের বাহিরেই থেকে যায়।

একবার ভেবে দেখেন, আপনি যদি কোন আদালতের নির্দেশ অমান্য করেন তাহলে তা অবমাননার অভিযোগে কঠোর-ভাবে তিরস্কৃত হতে পারেন। কিন্তু অ্যাপলের এর ধরনের ব্যবহার প্রমান করে যে তারা আইনের কাছে কততুকু শ্রদ্ধাশীল।

পরিবেশ বিনাশকারী হিসেবে অ্যাপল

অ্যাপল তাদের শিল্পে ব্যবহৃত বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থ ফেলার স্থান হিসেবে নদীকে ব্যবহার করছে। অ্যাপল এখন  চীনা শ্রমিক এবং পরিবেশগত আইনি সমস্যা থেকে সুবিধা গ্রহণ করে তাদের সরবরাহকারীদের দ্বারা বিপুল পরিমান বিষাক্ত গ্যাসের মেঘ পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে দিচ্ছে। সেই গ্রামের মানুষেরা বিস্ময়কর হারে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। অন্য কথায়, এর ফলে পুরো পরিবারের সম্পুর্ন বিলুপ্ত হচ্ছে। তাছাড়া ২০১১ সালের শুরুতে অ্যাপল তাদের আইপ্যাড তৈরির খরচ কমানোর জন্য সস্তা কেমিক্যাল ব্যবহার করে। যার ফলে প্রায় ১৩৭ জন কর্মী সেই গ্যাসের বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়।

কর্মীদের হারভাঙ্গা খাটুনির ব্যবহার

শ্রমিকদের একটানা হাড়ভাঙ্গা খাটুনি তাদের ব্যাবসায়িক প্রথায় নতুন কোন ঘটনা নয়। অ্যাপলে এই সব শ্রমিকদের যে শর্তে কাজ দেয়া হয় তা ভয়াবহ ও জঘন্য। প্রতি মাসের কাজের বেতন মাত্র ৪০ ডলার এবং এই সব শ্রমিকদের দিনে প্রায় ১৫ ঘণ্টা একটানা কাজ করে যেতে হয়। ঘুমাতে হয় ঘনবসতিপূর্ণ শ্রমিক আস্থানায়। তাদের পরিবারের সাথে দেখা করার সুযোগ দেয়া হয় না এমনকি বাহিরের বিশ্বের সাথেও। রোজ সকালে আর্মি স্টাইলের প্রশিক্ষণ দিতে বাধ্য করে তারা।

শিশু শ্রম

বিশ্বের যে কোন দেশে শিশুশ্রমের থেকে বেশি অনৈতিক কোন কাজ নেই। কিন্তু অ্যাপল এই অনৈতিক কাজ করে আসছে এখন পর্যন্ত। ২০১০ সালে অ্যাপলের চাইনিজ সরবরাহকারীরা প্রায় ৯১ জন শিশুকে দিয়ে কাজ করাতো। কিন্তু তাদের এই শিশু শ্রমিকের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়। শেষ দুই বছরে অ্যাপলের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে শিশু শ্রমিক সংখ্যা ৯১ জন থেকে বেড়ে ১০৬ জনে উপনীত হয়।

কর্মচারীর অপব্যবহার

এই পয়েন্ট এ আপনি আমার লেখাগুলো পড়ে হতাশ হতে পারেব আবার আশ্চর্যও হতে পারেন অথবা এমনকি আপনি প্রচণ্ড বিরক্ত হয়ে আপনি পড়াও বন্ধ করে দিতে পারেন। তবে আপনি যদি এখনও আমাদের সাথে থাকেন তাহলে আপনি এখন একথা শুনে বিস্মিত হবেন যে অ্যাপল সেই সব সরবরাহকারীদের সমর্থন করে যারা তাদের শ্রমিকদের অবমাননা করে। এই শ্রমিকরা প্রায় সরবরাহকারীদের এক ধরনের চুক্তিপত্রের মাধ্যমে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয় এবং তাদেরকে একটি বসবাসযোগ্য পণ্যাগারে বাস করার জন্য বাধ্য করা হয়। যে কোন কাজ করার জন্য তাদের ব্রেন ওয়াশ করা হয়, ৩৪ ঘণ্টা শিফটে কাজ করতে বাধ্য করা হয়, আলসেমির জন্য হাই তুললে বেতন কমিয়ে শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়। এখানকার অনেক শ্রমিক অত্যাধিক পরিশ্রম করতে গিয়ে মারা গেছে। সরবরাহকারীরা তাদের এই মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয় এবং  শ্রমিকদের পরিবার কে সর্বনিম্ন ক্ষতিপূরণ দিয়ে পরিবারের কাছ থেকে চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে কনট্র্যাক বাতিল করে।

তারা তাদের গ্রাহকদের ঘৃণা করে

আগে নির্দিষ্ট করা প্রয়োজন যে, অ্যাপল সব সময় তাদের প্রতিদণ্ডীদের ঘৃণার চোখে দেখে। ধরুন, আপনি আপনার ডিভাইসের কিছুটা পরিবর্তন করতে চান অথবা Jailbreak করাতে চান। যাতে করে আপনি আপনার ডিভাইসে যে কোন তৃতীয় পক্ষের যে কোন প্রোগ্রামকে চালাতে পারেন। কিন্তু অ্যাপল ইচ্ছাকৃত ভাবেই আপনার পরিবর্তিত ডিভাইসটির প্রোগ্রামকে নষ্ট করতে বার বার আপডেট পাঠায়। মানে হল অ্যাপল আনন্দের সাথে আপনার থেকে কষ্টার্জিত টাকা নিবে - ভোক্তাদের সাথে সুন্দরভাবে লেনদেন সম্পূর্ণ করবে এবং শেষে আপনার ইচ্ছামত কোন কিছু পরিবর্তন করতে চাইলে তা বাধার সৃষ্টি করবে।

এখন আপনি যদি একটি খলনায়ক কে বর্ণনা করতে চান তাহলে অন্যায়, অনৈতিক, অবিচার, ঘৃণা এই সব বিষয় গুলো সব সময় একই লাইনে বিরাজ করবে। আর এই ৯টি প্রকৃত ঘটনা অ্যাপলকে নিশ্চিত ভাবেই সেই খলনায়ক পরিচয়ে পরিচিত করে।

Wednesday, November 27, 2013

ডিসেম্বরে মোবাইলে আসছে গ্র্যান্ড থেফট অটো: স্যান অ্যান্ড্রিয়াস

জিটিএ স্যান অ্যান্ড্রিয়াস

স্যান্ডবক্স-টাইপ গেমের জগতে অ্যাকশন, অ্যাডভেঞ্চার ও রেসিং-এর এক অপূর্ব সমন্বয় গড়ে গ্র্যান্ড থেফট অটো জনপ্রিয়তা অর্জন করে নিয়েছে অনেক আগেই। কিছুদিন আগেই জিটিএ ৫ মুক্তি পেয়েছে যা আগের সব রেকর্ড ভেঙে ফেলে মাত্র কয়েকদিনেই। কিন্তু তাই বলে আগের গেমগুলোর জনপ্রিয়তা বা অভিজ্ঞতায় ভাটা পড়েনি মোটেই। আর জিটিএ সিরিজের অন্যতম জনপ্রিয় গেম, স্যান অ্যান্ড্রিয়াস যখন মোবাইলে আসবে, তখন তো জিটিএ ফ্যানদের বাস্তব জগতে আর খুঁজেই পাওয়া যাবে না!
ঠিক তেমনটাই ঘটতে চলেছে আগামী মাসে। রকস্টার গেমস সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে, আগামী মাসেই জিটিএ ফ্যানদের স্বপ্ন পূরণ হতে চলছে। কেননা, জিটিএ ভাইস সিটি অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস-এ আসার পর থেকেই সবার শুরু হওয়া অপেক্ষার প্রহর শেষ হবে আগামী মাসে, যখন মোবাইল ডিভাইসের জন্য মুক্তি দেয়া হবে সিরিজের অন্যতম জনপ্রিয় গেম, গ্র্যান্ড থেফট অটো: স্যান অ্যান্ড্রিয়াস।
রকস্টার জানিয়েছে, মোবাইল ডিভাইসের জন্য উপযোগী করতে গিয়ে মোটেই ছাড় দিতে হয়নি তাদের। বরং উল্টো গেমের গ্রাফিক্সে আরও ইমপ্রুভমেন্ট আনা হয়েছে। বাড়িয়ে তোলা হয়েছে শ্যাডো, ড্র ডিসট্যান্স এবং কালার প্যালেট। একইসঙ্গে গেমের প্রতিটি ক্যারেক্টার ও গাড়িকেও এনহ্যান্স করা হয়েছে। ফলে এই ক্রিসমাসে গেমাররা পাবেন আরও চমৎকার ও আকর্ষণীয় এক স্যান অ্যান্ড্রিয়াস।
স্যান অ্যান্ড্রিয়াসকে মোবাইলে খেলার উপযোগী করতে গিয়ে নতুন কিছু টাচ কন্ট্রোল যোগ করা হয়েছে। কিছু ডিসপ্লে টাচ বাটন দেয়া হয়েছে যেগুলো কেবল তখনই ভেসে উঠবে যখন আপনার প্রয়োজন পড়বে। অন্য সময় অকারণে ডিসপ্লেতে থেকে জায়গা দখল করে থাকবে না। এছাড়াও একাধিক কন্ট্রোল স্কিম রাখা হচ্ছে, ফলে ড্রাইভিং, ঘুরে বেড়ানো ইত্যাদি বিভিন্ন কাজের জন্য বিভিন্ন রকমের কন্ট্রোল পাবেন গেমাররা।
রকস্টারের ঘোষণা অনুযায়ী, শুরুতেই গ্র্যান্ড থেফট অটো স্যান অ্যান্ড্রিয়াস মুক্তি দেয়া হবে আইওএস এবং অ্যান্ড্রয়েড, অ্যামাজন কিন্ডল ও উইন্ডোজ মোবাইল-এর বাছাইকৃত কিছু ডিভাইসে। আগামী কয়েক সপ্তাহে এ সম্পর্কিত আরও তথ্য জানানো হবে বলেও লিখেছে রকস্টার।

Monday, November 25, 2013

এখন থেকে আপনার মুখের কমান্ডে মোবাইল চলবে!

আমি নিজেও প্রথমে অবাক হয়েছিলাম এইটা শুনে যে মোবাইলের বাটন না টিপে শুধু মুখে হও বললেই হয়ে যাবে। Just say "Ok Google"


আপনাকে স্ক্রিন টাচ করতে হবে না। এইভাবে আপনি সবকিছু করতে পারবেন। এমনকি ম্যাসেজিং-ও করতে পারবেন। এক কথাই, সব কিছু করতে পারবেন আপনার মুখ দিয়ে।


এছাড়াও আপনি গান শুনতে বা কল আসলে রিসিভ করতে চাইলে বা কল দিতে চাইলে আপনি শুধু আপনার মুখে নাম্বার বলে Call বা Ok বললেই হয়ে যাবে। অনেক মজার না?


একইভাবে আপনি গান শুনতে এবং ভিডিও দেখতে পারবেন। 


এছাড়াও আপনার মোবাইলে যদি কোনো অপরিচিত কোন নাম্বার থেকে কল আসে তখন আপনার মোবাইলে Google map দেখাবে কোথায় থেকে কল আসছে। 



ইন্টারনেটে কাজ করে অর্থ উপার্জন : কিভাবে করবেন

আগামীতে আউটসোর্সিং হবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস, কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড় জায়গা। তারপরও যারা একাজ করবেন তারা অনেকেই অন্ধকারে রয়ে গেছেন। অনেকেই জানেন না ঠিক কি করবেন। কি যোগ্যতা প্রয়োজন হবে, কি কি যন্ত্রপাতি প্রয়োজন হবে, কি কাজ করতে হবে, কাজ কোথায় পাওয়া যাবে, কত টাকা পাওয়া যাবে, কিভাবে পাওয়া যাবে। এই প্রশ্নগুলির উত্তর ধারাবাহিকভাবে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে এখানে।


প্রথমেই একটা কথা পরিস্কার করে নেয়া ভাল। বলা হচ্ছে কাজ করে অর্থ উপার্জনের বিষয়ে। কাজেই আপনাকে কাজ করতে হবে, সে কাজ শিখতে হবে, অন্যদের সাথে প্রতিযোগিতা করতে হবে। আপনার দক্ষতা যত বেশি অর্থ উপার্জনের সুযোগ তত বেশি। এটাই একমাত্র পথ। যদি কাজ শিখতে এবং করতে পর্যাপ্ত আগ্রহ এবং চেষ্টা না থাকে তাহলে সময় নষ্ট না করাই ভাল। সহজে অর্থ উপার্জন বলে যা বুঝানো হয় তা আসলে ততটা সহজ না।

আউটসোর্সিং কি ?


এটা নিশ্চয়ই প্রথম প্রশ্ন। উত্তর হচ্ছে, বাড়িতে বসে অন্য কারো কাজ করা। উন্নত দেশগুলিতে (আমেরিকা কিংবা ইউরোপ) মজুরী অত্যন্ত বেশি। কোন কোম্পানীর যদি নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম তৈরী প্রয়োজন হয়, এজন্য যদি একজন প্রোগ্রামার নিয়োগ করতে হয় তাহলে বিপুল পরিমান টাকা গুনতে হয়। সেকাজটিই অন্য দেশের প্রোগ্রামার দিয়ে করিয়ে নিলে তুলনামুলক কম টাকায় করানো যায়। বর্তমান ইন্টারনেট ব্যবস্থায় খুব সহজে একাজ করা সম্ভব। আপনি সেই প্রোগ্রামার, ডিজাইনার, এনিমেটর অথবা যাই হোন না কেন ইন্টারনেটের মাধ্যমেই তাদের কাজ করতে পারেন, ঘরের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বড় কোম্পানীর বদলে ছোট কোম্পানী, কিংবা ব্যক্তি পর্যায়ের কাজের কথা যদি এর সাথে যোগ করা হয় তাহলে কাজের পরিধি বেড়ে যায় অনেক। 


ধরুন, কোন ব্যক্তির একটি ওয়েবসাইট তৈরী করা প্রয়োজন। তিনি নিজে সেকাজ পারেন না। কাজেই তার প্রয়োজন এমন একজন ব্যক্তি যিনি সেকাজ করে দেবেন। আপনি যদি সেকাজে দক্ষ হন তাহলে আপনি আগ্রহি হয়ে সেখানে যোগাযোগ করলেন। সমঝোতা হল, আপনি কাজটি করে দেবেন, বিনিময়ে ১০০ ডলার পাবেন। লাভ দুজনেরই। কাজেই, আউটসোর্সিং হচ্ছে এক যায়গার কাজ অন্যযায়গা থেকে করিয়ে নেয়া। এই কাজকে সহজ করার জন্য অনেক প্রতিস্ঠান রয়েছে। তাদের ওয়ের সাইটে বিনামুল্যে সদস্য হওয়া যায় (আপনাকে বিনামুল্যে সেবা দিয়েও তারা নিজেরা লাভ করেন। সে হিসেব আলাদা)। তাদের সদস্য দুধরনের, একপক্ষ কাজ দেন, আরেকপক্ষ কাজ করেন। আপনি যখন কাজ দেবেন তখন কাজের বিবরন, সময়, অর্থের পরিমান ইত্যাদি তাদের জানাবেন। তারা ওয়েবসাইটে সেগুলি রেখে দেবেন যারা কাজ করতে আগ্রহি তাদের জন্য।



আপনি যত কাজ করবেন তখন তাদের ওয়েব সাইটে গিয়ে সেই তালিকা থেকে নিজের পছন্দমত কাজের জন্য আবেদন করবেন (সাধারনত একটি লিংকে ক্লিক করাই যথেষ্ট)। যার কাজ তিনি আবেদনগুলি যাচাই করে যাকে যোগ্য মনে করবেন তাকে কাজটি দেবেন। আপনি সেই ব্যক্তি হলে কাজটি করে ইন্টারনেটের মাধ্যমেই তারকাছে পাঠিয়ে দেবেন। সাথেসাথে আপনার একাউন্টে কাজের অর্থ জমা হবে।

কাজের ধরন


একটু আগে দুধরনের কাজের কথা বলা হয়েছে, একটি কোম্পানীর, অপরটি ছোট কোম্পানী কিংবা ব্যক্তির। আউটসোসিং এর কাজ মুলত এই দুধরনের। বড় কোম্পানীর বড় কাজ করার জন্য বড় প্রতিস্ঠান প্রয়োজন। সেখানে আপনি একজন নিয়মিত কর্মী  হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেন। আপনি ফ্রিল্যান্সার নন। আর ছোট কাজের ক্ষেত্রে আপনি নিজেই সবকিছু। যোগাযোগ, কাজ করা, অর্থ গ্রহন সবকিছু করতে হবে নিজেকেই। অবশ্য কয়েকজন একসাথে শুরু করে ক্রমাম্বয়ে বড় কোম্পানীতে পরিনত হওয়া অবশ্যই সম্ভব। ধরে নেয়া হচ্ছে আপনি একা কাজ করতে আগ্রহি। এখানে সে সম্পর্কিত তথ্যই উল্লেখ করা হচ্ছে। এক কথায়, কম্পিউটার ব্যবহার করে যাকিছু করা সম্ভব সবধরনের কাজই পাওয়া যায় এভাবে। গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব পেজ তৈরী, ওয়েব পেজের কোন সমস্যার সমাধান থেকে শুরু করে এনিমেশন, ভিডিও এডিটিং কিংবা একেবারে সহজ ডাটা এন্ট্রি পর্যন্ত। কাজ যত সহজ অর্থের পরিমান তত কম, কাজ যত জটিল অর্থের পরিমান তত বেশি এই নিয়মে। উদাহরন হিসেবে ওয়েব সাইটের জন্য ফটোশপে একটি ব্যানার বিজ্ঞাপন তৈরী করে যে পরিমান অর্থ পাবেন ফ্লাশে এনিমেটেড ব্যানার তৈরী করে পাবেন তারথেকে অনেক বেশি অর্থ। বাস্তব ধারনা পাওয়ার সবচেয়ে ভাল পথ হচ্ছে এ ধরনের ওয়েবসাইটে গিয়ে কাজের তালিকা দেখা।

কি শিখতে হবে?


কোন কাজ আপনার জন্য ভাল সেটা যাচাইয়ের দায়িত্ব আপনার। আগ্রহ কোন বিষয়ে, দক্ষতা কোন বিষয়ে, কতদুর পর্যন্ত যেতে পারবেন এগুলি একমাত্র আপনিই জানতে পারেন। কোন কাজে অর্থ বেশি এটা বিচার করে সেই কাজ করতে না যাওয়াই ভাল। প্রোগ্রামার হওয়ার জন্য একধরনের প্রতিভা প্রয়োজন, এনিমেটর হওয়ার জন্য আরেক ধরনের, ভাল ডিজাইনার হওয়ার জন্য আরেক ধরনের। কোন বিষয়ে আগ্রহি হলে সে বিষয়ে খোজ নিন, কিছুদিন চেষ্টা করুন, তারপর দ্রুতই সিদ্ধান্ত নিন। এবিষয়েও সত্যিকারের সাহায্য পাবেন এধরনের জব সাইটে। প্রতিটি কাজের বর্ননার সাথে কোন সফটঅয়্যারে দক্ষতা থাকতে হবে তা উল্লেখ করা থাকে।

কত আয় করা সম্ভব


বিষয়টি পুরোপুরি আপনার কাজের ধরনের ওপর নির্ভর করে। অধিকাংশ কাজের হিসেব হয় ঘন্টা হিসেবে। গ্রাফিক ডিজাইনকে উদাহরন হিসেবে ধরলে মাসে অনায়াসে হাজার ডলার আয় করা সম্ভব। প্রোগ্রামার হলে অনেক বেশি।



কি যন্ত্রপাতি প্রয়োজন

এধরনের কাজে আপনার মুল অস্ত্র হচ্ছে মেধা। কাজেই দামী যন্ত্রপাতি নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন হয় না, বিশেষ কাজ ছাড়া। কাজের ধরন অনুযায়ী অবশ্যই আপনার স্ক্যানার, গ্রাফিক ট্যাবলেট, দামী ক্যামেরা ইত্যাদি প্রয়োজন হতে পারে। এধরনের বিশেষ যন্ত্র বাদ দিলে আপনার প্রয়োজন একটি মোটামুটি পর্যায়ের কম্পিউটার এবং ভাল ইন্টারনেট সংযোগ। বর্তমানে যথেষ্ট কম টাকায় ভাল কম্পিউটার পাওয়া যায়। আর ইন্টারনেট সংযোগের বিষয়ে বলা আসলে অর্থহীন। তারা আশা করে আপনি টাকা দেবেন, বদলে কি পাবেন তাতে তাদের কিছু যায়-আসে না। আর সরকার কিংবা প্রশাসন যত বক্তৃতা-বিবৃতি দিক না কেন, ব্যবসায়িদের কাছে সবসময় মাথা নিচু করে থাকে। মুল কথায় ফেরা যাক। ইন্টারনেটে কাজ করে অর্থ উপার্জনের এটা প্রাথমিক তথ্য। শুরুতেই আপনি যা করতে পারেন তা হচ্ছে এধরনের ওয়েবসাইটে গিয়ে বিস্তারিত পড়া, বোঝার চেষ্টা করা। সত্যিকাজের কাজের তথ্য তাদের কাছেই পাওয়া সম্ভব, অকারনে অন্য যায়গায় সময় নষ্ট করবেন না। odesk, freelancer এ ধরনের জনপ্রিয় ওয়েব সাইটের উদাহরন। সার্চ করলে এধরনের আরো বহু সাইট পাবেন। 

ভালভাবে বোঝার জন্য কয়েকদিন নিয়মিত এই সাইটগুলিতে সময় কাটান। কাজ শুরু করুন, সেই সাথে আরো জানার চেষ্টা করুন।

উবুন্টুর নতুন ফোন অপারেটিং সিস্টেম

উবুন্টু ফোন ওএস
ক্যানোনিক্যালের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক শাটলওয়ার্থ চলতি বছরের অক্টোবরে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছেন স্মার্টফোনের জন্য উবুন্টুর নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম, উবুন্টু ফোন ওএস!
শাটলওয়ার্থ জানিয়েছেন, উবুন্টুর অগ্রযাত্রায় এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হয়ে থাকবে। তার বিশ্বাস, “উবুন্টু” ব্র্যান্ডের যে সুনাম রয়েছে, সেই সুনাম নয়, বরং উবুন্টু ফোন ওএস-এর দারুণ ব্যবহার-বান্ধব ইন্টারফেসই একে স্মার্টফোন বাজারে জনপ্রিয় করে তুলবে।
প্রতিষ্ঠাতার বক্তব্য মতে, উবুন্টু ফোন ওএস-এ অন্য যে কোনো অপারেটিং সিস্টেমের তুলনায় ডিভাইসের স্ক্রিনের জায়গার সদ্ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও “লকস্ক্রিন নয়, ওয়েলকাম স্ক্রিন”-ও ব্যবহারকারীর মন কাড়তে দেরি করবে না বলে আশাবাদী উবুন্টুর পেছনের প্রতিষ্ঠান ক্যানোনিক্যালের প্রতিষ্ঠাতা।

ডিভাইস

শাটলওয়ার্থ জানিয়েছেন, উবুন্টুকে একেবারে শুরু থেকে তৈরি করা হয়েছে যাতে করে এটি লো-এন্ড স্মার্টফোনেও ভালো পারফরম্যান্স দিতে পারে আবার হাই-এন্ড স্মার্টফোনের বাড়তি হার্ডওয়্যারকেও কাজে লাগাতে পারে। ফলে ব্যবহারকারীর বাজেট যাই থাকুক না কেন, কোনো না কোনো উবুন্টু ফোন ওএস-চালিত ডিভাইস পেয়েই যাবেন।
প্রাথমিকভাবে উবুন্টু জানিয়েছে, লো-এন্ড স্মার্টফোন বলতে ন্যূনতম ১ গিগাহার্জ করটেক্স এ৯ প্রসেসর, ৫১২ মেগাবাইট-১ গিগাবাইট র‌্যাম এবং ৪-৮ গিগাবাইট স্টোরেজ + এসডি কার্ড সুবিধার ডিভাইসকেই ধরা হচ্ছে। অন্যদিকে হাই-এন্ড “সুপারফোন” বলতে ন্যূনতম কোয়াড-কোর এ৯ ইনটেল এটম প্রসেসর, ১ গিগাবাইট র‌্যাম ও ন্যূনতম ৩২ গিগাবাইট ফ্ল্যাশ স্টোরেজের ডিভাইসকে বলা হচ্ছে।
উবুন্টু ফোন ওএস
সূত্রমতে, লো-এন্ড ফোনে ব্যবহারকারীরা উবুন্টুর সব সুবিধাই পাবেন। কিন্তু হাই-এন্ড স্মার্টফোনে ব্যবহারকারীরা ডকের মাধ্যমে একটি কিবোর্ড, মনিটর আর মাউসের সংযোগ দিয়ে মোবাইল ডিভাইসকেই পুরো কম্পিউটারে রূপান্তর করে ফেলতে পারবেন।
উল্লেখ্য, উবুন্টু ফর অ্যান্ড্রয়েড নামে একটি প্রকল্প ইতোমধ্যেই চালু থাকলেও এর আইডিয়া সম্পূর্ণই ভিন্ন। উবুন্টু ফর অ্যান্ড্রয়েড-এ ব্যবহারকারীরা তাদের অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসেই উবুন্টু ইন্সটল করতে পারবেন। কিন্তু উবুন্টু ফোন ওএস অ্যান্ড্রয়েডে না, বরং স্বয়ংসম্পূর্ণ অপারেটিং সিস্টেম হিসেবেই ডিভাইসে কাজ করবে।

অ্যাপ্লিকেশন ইকোসিস্টেম

মোবাইল ফোন ওএস-এর সঙ্গেই চলে আসে অ্যাপ্লিকেশনের প্রশ্ন। খুশির খবর হচ্ছে, উবুন্টু ফোন ওএস-এ সেই চিন্তা করতে হবে না। উবুন্টু জানিয়েছে, উবুন্টু ডেস্কটপের যত অ্যাপ্লিকেশন বা সফটওয়্যার রয়েছে তার সবই উবুন্টু ফোন ওএস-এও কাজ করবে।
এছাড়াও ডেভেলপারদের জন্যও সুখবর রয়েছে। তারা তাদের ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনকেও উবুন্টুতে আলাদা অ্যাপ্লিকেশনে রূপান্তর করতে পারবেন। এতে করে ওয়েব ব্রাউজার ছাড়াই পুরো ওয়েবসাইটটি আলাদা অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে ব্যবহারকারীর উবুন্টু ফোন ওএস-চালিত ডিভাইসে চালু হবে। অন্যান্য অ্যাপ্লিকেশনের মতো এতে আলাদা আইকনও থাকবে। ফলে ব্যবহারকারী পাবেন ফুল ন্যাটিভ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা।
তবে ডেভেলপার কেবল এইচটিএমএল৫-এই সীমাবদ্ধ নন। চাইলে সি, সি++, জাভাস্ক্রিপ্ট ইত্যাদির সমন্বয়েও অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করা যাবে যা উবুন্টু ফোন ওএস-এ ভালো পারফরম্যান্স দিবে বলেই জানিয়েছে উবুন্টু।
যারা উবুন্টু ফোন অপারেটিং সিস্টেমের জন্য অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতে আগ্রহী, তাদের জন্য ডেভেলপমেন্ট সুট এই সপ্তাহেই মুক্তি দেয়া হবে।

সহজলভ্যতা

উবুন্টু ফোন ওএস একটি দারুণ কনসেপ্টের অপারেটিং সিস্টেম। ইতোমধ্যেই উবুন্টু সারাবিশ্বে অত্যন্ত জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম। ক্যানোনিক্যাল আশা প্রকাশ করেছে, তাদের ইন্টারফেসই ব্যবহারকারীদের আকর্ষণ করবে। আপনি চাইলে উবুন্টুর ওয়েবসাইটে এই অপারেটিং সিস্টেমের ইন্টারফেস দেখে আসতে পারেন। এছাড়াও উবুন্টু ডেস্কটপ অপারেটিং সিস্টেমের আগামী সংস্করণ ১৩.০৪-এ উবুন্টু ফোন ওএস-এর বেশ কিছু সুবিধা যোগ করে দেয়া হবে বলেও জানা গেছে।

কবে কীভাবে কিনবেন?

উবুন্টু ফোন ওএস চালিত ডিভাইস বাজারে আনার জন্য এখনও আগ্রহ দেখায়নি কোনো ক্যারিয়ার বা ম্যানুফ্যাকচারারই। তবে আশার কথা হচ্ছে, উবুন্টু ফর অ্যান্ড্রয়েড নিয়ে এ বছরই বড় একটি কোম্পানি স্মার্টফোন বাজারে আনবে বলে জানিয়েছে ক্যানোনিক্যাল। যদি তা সত্যি হয়, তাহলে উবুন্টু ফর অ্যান্ড্রয়েডের মাধ্যমেই ব্যবহারকারীরা উবুন্টু ফোন ওএস-এর স্বাদ পাবেন। যদি পছন্দ হয়েই যায়, তাহলে পরবর্তী ফোন হিসেবে উবুন্টু ফোন ওএস কিনতে স্বভাবতঃই দ্বিধা বোধ করবেন না সেই ব্যবহারকারী।
যেহেতু এখনও কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি, তাই এখনও বলা যাচ্ছে না কবে নাগাদ বাজারে আসতে পারে উবুন্টু ফোন ওএস। তবে আগামী সপ্তাহের কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স শো ২০১৩-তে উবুন্টু ফোন ওএস-এর প্রদর্শনী করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্ক শাটলওয়ার্থ।
উবুন্টু ফোন ওএস এখন পর্যন্ত নতুন একটি ওএস। ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনকে স্মার্টফোনে ব্যবহার উপযোগী করে তোলা আর উবুন্টুর সফটওয়্যারগুলোকে স্মার্টফোন উপযোগী করে তোলা উবুন্টু ফোন ওএস-এর অ্যাপ্লিকেশন স্বল্পতা দূর করবে, যেমনটা রয়েছে উইন্ডোজ ফোন ৮-এ। কিন্তু তবুও ব্যবহারকারীদের অ্যান্ড্রয়েড ফোন থেকে নজর সরাতে বেশ বেগ পেতে হবে উবুন্টুকে, এমনটাই মত অনেকের।